Posts

Showing posts from September, 2019

মৃত্যুর মৃত্যুদণ্ড ( অপ্রকাশিত )

সুতোতে আঘাত করে আয়ুকে পোড়ানো হলে ভালবাসা শীতঘুমে যায়; বেঁচে থাকে বিষাক্ত ক্ষমায়৷ দিনলিপি যুদ্ধ করে, স্নান করে, ঘামে, প্রেমের বিলাপ ভাসে সহস্র প্রণামে৷ সময় আশ্চর্য বায়ু, নিঃশ্বাস নিভিয়ে দিতে পারে৷ যার সুরে নাচবে বলে মায়াবহ্নি এসেছে দুয়ারে৷ অনুজ প্রয়াত হলে মাটিও কলার ধরে বিধিকে শাসায়৷ কত শব্দ ছন্দে বাঁধা নির্বিকার পড়ে আছে ব্যবধানে সুরের আশায়... ঈশ্বরের নেই কোনো দায়? যে গানে বারিষনামা কাঁদবে বলে ছেড়ে আসে ঘর; সেই পথে নেমেছ ঈশ্বর? প্রতিটি মেঘের বুকে লেখা আছে বন্য বিষোদ্গার৷ প্রেমকে হারিয়ে দেবে এত বড় ঈশ্বর তোমার? এমন কয়েদে ভরো, প্রেমটিকে পুজো করো, শোক ফিরে যাক বিদ্রুপেই৷ বিধানও বিচার চায় বিচারের হত্যা হলে, মৃত্যুর কি মৃত্যুদণ্ড নেই?

নিশীথের প্রতি ( অপ্রকাশিত)

জিভ থেকে খুলে রাখা প্রয়াসের চাকা সোনায় বাঁধিয়ে রাখা কণ্ঠগুহা থেকে খুন করে উন্মেষের ডানা৷ কয়েদ করেছো যত তত তুমি অন্ধ হলে আজ জলুসের চোখ পেলে প্রেক্ষাগৃহে হারাবে স্বরাজ৷ মায়াবী মরুতে ক্রীতদাসের প্রথায় সন্ধানের সুখ ছিঁড়ে পথ আজ তোমাকে চালায়৷ অভিমত লাঠি পেলে ধৃতি ওড়ে নিশীথের প্রতি৷ ঘুমন্ত স্বপ্নের কাছে বেড়ে চলে দেনা; তোমাকে বেঁধেছে জ্যোতি ক্ষমতা না চিনলে ঘোড়া নিজেকেই পেরোতে পারে না

গর্ভ শূণ্য পথ (অপ্রকাশিত)

নিজের ভেতরে খুঁজি হারানোর কতটুকু আছে বিলিয়ে দেবার মতো সঞ্চয়ের মাটি তারই মধ্যে দরদাম, শ্মশানে হেঁটেছি৷ পুড়ে যাওয়া কাঠ আর ধোঁয়ার মুকুট জানে কতটুকু ছিল ভ্রমের যোগান৷ তাই দিয়ে আগুনকে কাঠি! শূণ্য ঘর, তবু কিছু দেখাতেই চাই যেন কেউ কোনোদিন ছায়ামূর্তি বানাবে আমার৷ বাটিকে পুকুর ভাবি, খাল কে সাগর বিদায়ী চৌকাঠ জানে কতটুকু পূর্ণ হলো ঘর৷

ধ্বজা

প্রতিদিন ধ্বজা ওড়ে, রক্ত মাখে দেশে - বিদেশে, সীমান্তের বুকে.. পাখিদের নিঃস্ব করে, ক্ষমতাকে ঝাঁঝরা করে নিস্তব্ধতা ফিরিয়ে আনে দেশ৷ শুধু নিষ্পাপ গঙ্গার হাওয়ায় যে পতাকা উড়ছে কোন শব্দ হয়নি সেখানে৷ বহু রক্ত অন্ধকারে নিঃশব্দে ধুয়ে গেছে৷

বারিষনামা # ১৩

যখমের ঘরে, সন্ত্রাস শেষে আধমরা কুয়ো, নিরাশার দেশে দাদরার চালে বাতাসের সঙ্গীত৷ ঠিক প্রেম নয়, বিবিধ ক্ষতের বেঁচে থাকা মেঘেদের সমাবেশ৷ পুতুলের ঘরে এসেছ পরীক্ষিত! পিছুটান নেই, তবু কত টান পাখিটির ঠোঁটে বিরহ প্রয়ান বাঁধানো উঠোনে বৃষ্টির আগমন৷ কুয়াশা বিক্রি শালুকের দামে যতটুকু আছি শুধু এই নামে মৃত গোলাপের সমুদ্র মন্থন৷ এইটুকু থাক, পথ নির্বাক যতদূর যায় যাক চলে যাক বুক ছুঁয়ে থাক প্রিয় বারিষের স্বর৷ কিছু নেই, তবু কিছু তো আছেই মরুভূমি যেন চাঁদের কাছেই ভালো থাক যারা ইয়েমেনে বাঁধে ঘর৷

তৃষিত কেলাস

দুধেল বকের ঝাঁকে শেষের সারিতে বসে চলে যাই নিঃশব্দের দেশে.. ঘেমো কলকাতা থেকে বহু বহু দূর.. দিনান্তে; আহত কাঠবেড়ালির দ্বীপে৷ যেখানে সময় হাঁটে ফ্রিজারের দেশে, ব্যঙ্গ ফুঁড়ে উঠে আসে লালাভ শালুক, কেলাসের প্রাণবায়ু ভেজাবে বলেই৷ বিস্ময়ের তাস গিলে থুতুর মতোই, দেখি ওরা সাহেবকে বিঁধে ফেলে জোরালো টেক্কায়৷ আমিও হার্টের পাঁচ হাতে ধরে শূন্য হয়ে শুনি৷ কী চমক! ঔদ্ধত্য, বিরহের কাঁটা দিয়ে প্রলয় ঝংকার৷ পাশে মৃত পথ, দুর্গন্ধের ক্ষোভ বাসে বাসে৷ তৃপ্তির আভাসটুকু নেই৷ তারই পাশাপাশি এক কোণ ঘিরে জগৎ দেখেছি; পরিমিতি ধ্বংস করে প্রেমবৃত্তে বাঁচতে শেখা দেশ৷ সভ্যতার সমুদ্র পেরিয়ে শেষ স্টেশনের পথে ধীরে ধীরে খালি হয় ট্রেন৷ তৃষ্ণা বলে তুমি তার বিপরীতে হাঁটো৷

মেয়াদ

প্রাথমিক কিছু নয়, ভ্রমটুকু শোক তোমাকে জাগাবে বলে মেরে ফেলে দৃষ্টিহীন লোক৷ যে আগুনে মৌন মুখ হারানোর ভয়ে পাথরে পাথর ঠুকে হার্টবিট ক্ষয়... রাজহংসী হতে পারো বিশাল সে সমুদ্র নগরে স্বর্ণপদ্ম বেষ্টনীর মাঝে যেখানে লহরী জাগে শুভ্রস্নাত বধূটির সাজে তাকে শুধু কথা দিও, আর গন্ধ দিও ভালোবাসবার৷ সবেরই মেয়াদ হয় ঢেউ, পদ্ম জোয়ারের মতো ততটা আপন কর যা তোমাকে দিয়ে যাবে ক্ষত গাঢ়; কোনো প্রস্তর যুগের ইতিহাস খোঁড়া হলে ভবিষ্যত কুড়োবে প্রমাণ৷ শোক নয়, শোক নয়, জয়... কখনো প্রেমের আগে প্রেমিকের মেয়াদ ফুরোয়৷ ফসফরাসের গায়ে সমুদ্রের নোনা ইতিহাস আলিঙ্গন গৃহে অস্তমিত প্রেমটির অঙ্গার সাজিয়ে... সঞ্জীবনী দেশ পাবে প্রাচীন ক্ষতেই৷ গুপ্তধন ঝিনুকের ঘরে, তার কিছু হারাবার নেই৷ তবুও বিদায় বলে সারারাত জাগাবে বলেই৷

ঘূর্ণন

পৃথিবীর ভেতর পৃথিবী কার কথা, কত কথা পাথরের খাঁজে নর্তকীর সাজে, মলাটের ভাঁজে... যে বই লেখার চেয়ে মাঝে মাঝে পড়ে নেওয়া ভাল ভেতরে ভেতরে৷ ঘূর্ণনে হারিয়ে যায় শোক; কত হাত, বালির প্রণয়৷ এখন আর বিরহ আসে না৷ শ্লথ-প্রাণ অক্টোপাস চোখ পৃষ্ঠা খুলে পড়ে ফেরে ঘরে জোনাকি অক্ষরে লিখেছে তাদের ভাল হোক৷

পলাশের শোক (অপ্রকাশিত)

মাইগ্রেনের কথা চুরি করে ঢেলে দিই কুহকের ছাঁচে, জানিনা কবিতা না কী মৃত্যুর বিন্যাস; তোমাতে জড়াতে চায় ঝরে যাওয়া অপুষ্টির বিপন্ন পলাশ৷ আদরের স্পর্শ পেয়ে খুলে আসে লুক্কায়িত শোক, গন্ধের আকারে নর্দমার বীতশ্রদ্ধ মদ আর মুটেটির কাছে৷ তার কোন প্রেক্ষাগৃহ নেই; কুটুম্বের শেষ প্রান্তে যৌনতার গন্ধ শোঁকে রোজ৷ কলেজস্ট্রিটের ভীড় থেকে দূর কোন বস্তির কোণায় সে সাহিত্য খুজে পায় নেশার গহ্বরে, পরিমিত শয্যার ভেতর৷ বিক্রি হওয়া মাটির প্রদেশে জেগে ওঠে প্রাঞ্জল নিঃশব্দ৷ এখনও বলবে কবি রাত্রিহীন কবিতাকে                                 সঞ্জীবনী স্বপ্ন দেওয়া যায়?

প্রয়াণ বন্ধন

শ্মশান পেরিয়ে গেল যুগ; ম্লান সম্পর্কের টেরাকোটা, সুতোর প্রয়াণ৷ অন্তিম জলের কাছে বাকিটুকু সুখ৷ সময় পাথর হয়ে লেখে শোক, আয়না ও মুখ ঝাপসা, যত পরিধির বাড়; অস্থিভষ্ম স্তম্ভ করে গৃহস্থের উদিত সংসার৷ লুকান জলের আসা মানা৷ স্মৃতির গহনা কতটা বিয়োগ হলে হাসিমুখ উদযাপনে যায়... ফেলে আসা বান্ধবেরা সজ্জা ও মাছের ভাগ বেশি খোঁজে শ্রাদ্ধের থালায়৷

চরিত্রহীন

লজ্জার দ্বারে মাথা নুয়ে আছে কাম নিয়ন্ত্রণের ছাই চাপা বিছানায় সুযোগের তাসে ইন্দ্রজিতের বাণ স্মরণের পরে আগুনের পরিখায় ডুবে যেত, শুধু লজ্জার খুঁটে বাঁধা আয়নার কাছে চরিত্রদের মুখ৷ না, ছুঁয়ে দেখেনি কুয়াশার বুকে ধাঁধা পালা করে করে চেটে গেছে উৎসুক৷ অন্ধকারের উত্তেজনায় ধ্বস নিশিরাত, বাঁকা চাঁদ এসে খেতে চায় নেশার চাদরে বাতিলের খসখস দু ফোঁটা মাদকে ময়নার মতো গায়৷ তারা নেই, ফাঁকা মেঘে মেঘে গর্জন বেরোতে পারেনি অরণ্যে যার ঘর নিজেই নিজের আগুন নিয়ন্ত্রণ জ্বলেনি, ভেতরে ভিজে ভিজে গেছে খড়৷ কালো, ভাঙা বিশ্বের নিচে উদ্যান যা কেউ দেখেনি.. ঘুণ পোকা এসে খায় চরিত্রহীন আদরের কাছে ম্লান যা কিছু পেয়েছে তারও বেশি দিতে চায়৷