Posts

হাওয়া

Image
এত যে হরিণী দেখি, মনে হয় ঘাস পাতা হই... সহস্র জীবন দিয়ে কোটি কোটি সমুদ্র পেরোই। নৈসর্গিক রং আর ফুলের কাঁটার মত ঘ্রাণ শরীর পেরিয়ে গেলে অপ্সরা গজল শোনান। ঝরে পড়া শিউলির হাওয়া আর বেচে দেওয়া রং চোখের দূরত্বে যেন মাঝখানে অজানা বারণ এমন অকাল মোহে পেরিয়ে চলেছি সাড়েসাতি  সাগর ছাড়িয়ে এসে হৃদয়ের ভুল পথে হাঁটি। © প্রভাত ঘোষ

ভাইফোঁটা

Image
ভাইফোঁটা.. তার অলঙ্কারের বীজে.. নিজেকে ফের হারিয়ে এলাম নিজে। আমরা ফকির, সময় শুধু রাজা কিছু অতীত অন্ধকারের গাজা। তবুও বাঁচা নিশ্বাসে নিশ্বাসে  ভালোবাসার শিশির ভেজা ঘাসে  হাঁটতে বেরোই নতুন করে আবার অনেক বাকি... অনেকটা পথ যাবার। ©প্রভাত ঘোষ

ছবি

Image
এমন সফর যেন কবেকার সাদা কালো ছবি সমাজের বেড়াজাল মিলনে রেখেছে মুলতুবি। যেখানে চোখের ভাষা ঘুরে ঘুরে পাশ ফিরে পড়া  প্রতিটি ঝলক যেন কোটি - কোটি চাঁদের মহড়া। সহস্র রং ঢাকা সাদা কালো মোড়কের ঘরে... প্রতিবার ফিরে দেখলে ঝড় ওঠে মেঘের ভেতরে। প্রকৃতি কোন্ নিয়মে পাশাপাশি ঠেলে দিতে চায়! কিছু অপূর্ব ফুল এইভাবে পথেই হারায়। ওদিকে লিখিত পাতা, পাশে এক সুমধুর মায়া নখের ধূসর... আর এ যুদ্ধে হাসিই বিজয়া। পিঠ থেকে চুল নেমে ক্ষয়ে আসে পাথরের স্তর  এ কেমন অপ্সরা! ঠোঁট রাখে বুকের ভেতর... মায়ার গঠন কালে যেন দুধ ঢেলেছে শরীরে অনাহুত চোখ তাকে বারে বারে দেখে ফিরে ফিরে। থেমে যাও নীল ঘড়ি, আরো কিছু ছবি আঁকি মনে কোন্ সিন্দুকে কেউ রেখেছিল নিজেকে গোপনে! এমন চাহনি তার বাম দিকে বেপরোয়া তিল এটুকু সফরে শুধু এটুকুই জ্যান্ত দলিল। ©প্রভাত ঘোষ

কুণ্ডলিনী

Image
পারদ ওঠা কুণ্ডলিনীর বুকের পাশে মোহ  প্রতিদিনের আশায়, চাওয়ায় নীরব বিদ্রোহ হলদে পাতার জলের ওপর আলগা হয়ে পড়া সুতোই জানে শক্ত কত বাঁধন গাঁটছড়ার থাকলে পাশে বুঝতে পারি আমরা কত কম বীর  অনেক দূরের রাস্তা শুধু ভরসা অবলম্বীর  মুহুর্মুহু হোঁচট খেয়েও দাড়িয়ে থাকার চিন্তায়... যুদ্ধ যেন পথিকৃৎ আর রাস্তা আমায় দিক দেয় ফেলে আসা গাছের পাতায় অনেক লেখাও বারণ বৃষ্টি নিজেই মুছিয়ে দেবে যুদ্ধ হবার কারণ। থাক না সেসব ছায়ায় ছায়ায় নীরব উল্লাসে দু এক কথার গল্প করি শারদীয়ার ঘাসে।। ©প্রভাত ঘোষ

শারদে

Image
ডানায় ডানায় আনন্দ তার মেঘের পাশে পাশে ক্ষয়ের ভেতর স্বপ্ন আসে শারদে, অভ্যাসে... স্মৃতির পাতায় আলোর রেখা, অনেক দূরে যাওয়া প্রাচীন জলের নিয়তি কি সাগরসম্ভবা!! যত্নে রাখা পাড়ার গলি মননে, উদ্বেগে... প্রৌঢ় রোদে মূল্য ছায়ার গাছের কাছে শেখে  সেই যে দূরে মায়ের সাথে গল্পে, ছোঁয়ার ফাঁকে এখন তোমার অনুমতির যন্ত্রে লেখা থাকে কোথাও কোনো ভালোবাসার নতুন পাতা, কলি অচল হাতে জীবন খাতার অমুল্য আধুলী  আশার ভেলা ভাসিয়ে আসি আগমনের টানে সরেনা আজ পাহাড় তবু বাঁচার সন্ধানে। ©প্রভাত ঘোষ

স্পর্শ

শহর ছাড়িয়ে গেছে  আমাদের আশাহত ঢেউ অবসর ঝুলি থেকে মাঝে মাঝে কখনো বেরোও। কী ছিল সেদিন চার ঠোঁট জড়তাবিহীন  ছাতা ছাড়া সাইকেল স্ট্যান্ড থেকে ভেজা একাত্ম কলিজা বৃষ্টি আসে বৃষ্টি যায় অসময়ে সর্বত্র ভেজায় অজুহাতে অজুহাতে পুরু হয় বিচ্ছেদের স্তর অন্তিম প্রহর— যা গেছে তা থাক— স্পর্শের স্মৃতিও বড় দামি দেখেছ কিভাবে বারে বারে তোমাকে নিয়ম করে ছুঁয়ে যাচ্ছি আমি

স্মৃতিচারণের বেলায়

Image
হাওয়ার ঝংকার আর সুন্দরীর খোশগল্প, গান... ঢেউ এসে মুছে দেয় নিরাশার সমস্ত প্রমাণ৷ দোল খাওয়া বাঁশ থেকে ওপারের স্বপ্ন দেখে পাখি ভুলে যায় অতীতের নিভে যাওয়া শতেক জোনাকি। ডুবে গিয়ে বেঁচে থাকা প্রেম আর সুরের নব্বই সন্ধ্যা কালে গল্প বলে উড়ে যাওয়া জীবনের খই। রাত্রি কাল জেগে থাকে ঢেউয়ে ঢেউয়ে সমুদ্রের তীর  একটা রাত বেঁচে থাকা ন'জন অতন্দ্র প্রহরীর॥ © প্রভাত ঘোষ

ভ্রাতৃচারিতা

যেদিকে তাকাই সব ধূ ধূ প্রান্তর শুকোচ্ছে, এক ঘটি জল আন্  তো বিরল প্রজাতি, বাঁশ কেটেছে ঝাঁড়ের ঢুকিয়ে দিয়েছে এনে প্রজার গাঁ.... আমরা হারামজাদা, তবু চেটে যাই  জলের ভেতরে মল, তাই দেখে খাই আমরা এটাই চাই, মরণের কাঠ— বাঁচব কুকুর হয়ে পুড়ে যাক ঝাঁ.... আমরা সবাই রাজা তরোয়ালহীন পেছনে চাবুক সওয়া আসলে কঠিন৷ ইতিহাস খুঁড়ে দেয় অজস্র প্রহার তবু আমরা বিষ খাই ভ্রাতৃচারিতার॥ ©

আদিম চেহারা

Image
একটু দূরেই গ্রামীণ পাহাড়, হাওয়ায় এলোমেলো ক্ষেত জুড়ে ঢেউ নরম শিষে সোহাগ নেমে এলো তাল গাছে সুর, আদিম নগর, পোহাতি সভ্যতা... ডাক দিয়েছে, খবর আছে... থিতিয়ে যাওয়া ব্যথা কোথায় গেলো, কেউ জানিনা, কোন সড়কের বাঁকে হারিয়ে গিয়েও খুজতে বেরোয় আদিম চেহারাকে স্বপ্ন জুড়ে পাথর মাটি, ডুবতে থাকা সভ্যতাটি  পেছন ফিরে আয়না দ্যাখে নতুন পথের তলে  নতুন দিনের মানুষ কি আর আমার কথা বলে!! @প্রভাত ঘোষ

জাস্টিস ফর... আর জি কর...

নিজে থেকে হুমড়ি খেয়ে  শাসকের চামচা হয়ে  কে দিলো বিচার হে ঈশ্বর!! তবু গলা থামবে না আর যা'ই হোক, টাকায় বিচার... (চাঁদে দাগ লাগালে খচ্চর!!) তবু উৎসবেই যাবো উৎসবে শোক মানাবো  সেখানেই গর্জে উঠবে স্বর..... জাস্টিস ফর.... আর জি কর.... জাস্টিস ফর.... আর জি কর.... 🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫🚫 © প্রভাত ঘোষ 

ভাষাজাল

দু একটা কথা যদি আলাপনে বলা যায় যাক... বৃষ্টির শব্দের মতো নিজস্ব ভাষা; মন আর প্রকৃতির অনাদিকালের ভাষাজাল অনন্ত কাল ধরে চলে আসা গুপ্ত প্রেমালাপ যা শুধু প্রকৃতি বোঝে অথবা বোঝে না.... মন তবু বলে যায় , লিখে যায় গূঢ় বেদনায়— আমাদের এমন কী দায়! প্রতিদিন পুড়তে পুড়তে বাকসিদ্ধ হয়ে যায় বয়স্ক মানুষ। স্থান কাল পাত্র আর পাত্রীর মিলন - পত্র শুধু পড়ে থাকে বিষন্ন ছায়ায়। ওপাশে যেওনা ছেলে  ওখানে মরণ ব'ই আর কিছু নেই... এ এক ভীষণ মায়াজাল। প্রেম আর প্রকৃতি যেমন করে এক দেহে লীন হয়ে যায় সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে — একা তবু একা নয় আর জ্বলেছে সোনার গুঁড়ো তবেই তো পরেছো অলংকার।

রং বদল

রং একটু বদলে নিলেই কুৎসিত'ও কী ভাবে যেন সুন্দর মুখোশ হয়ে যায়..

বৃষ্টিতে যারা হাঁটেনি কখনও

৮) মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে হবে মেঘের নিচে কাশের আকাশ মনের অবান্তরে হাওয়ার চলন এলো মেলো পাথর ছুঁয়ে ফুল ফোটালো অঝোর দু-জন, ঝমঝমে ছাদ, ঠোঁটের শেকল জুড়ে— কাশ পেরোলে ট্রেনের সানাই রং লেগেছে ধূসর জামায় দু-হাত বেঁধে উঠছে জীবন জীবনমন্থনে এই ক-দিনে, এই ক-দিনে

আমার কবিতা যাপন

উড়তে চাওয়া পাখি, তার ডানায় কুঠার কখনো দুপুরে পোড়ে, অথবা নিজেরই ধারে ছাঁটা যায় ডানাখানি তার॥ বেশিরভাগ বাঙালী যেমন দু কলম লেখে নিজের জীবনে, সেভাবেই একদিন লেখা আসে আমারও কলমে। ব্যাচেলর জীবন, প্রেম , প্রেমে ব্যর্থতা, প্রথম চাকরি, সেখানেও টানাপোড়েন এই সবই যেন একজন সাধারণ মধ্যবিত্ত জীবনের এক একটা প্রাকৃতিক অধ্যায়। ছোটবেলা থেকে রবীন্দ্রনাথ পড়তে পড়তে কাঁচা হাতে হয়তো কয়েকটা কবিতা লিখেছিলাম একসময়। সেই এক যুগ ছিল, ছোটদের শুকতারা আসতো বাড়িতে। সাধারণ ডাকে একদিন পোস্ট করে দিই, দেখি পরের মাসে সেই কবিতাই ছাপা হয়েছে ওই পত্রিকায়। সে এক শিশু মনের অনাবিল আনন্দ। তার পর আবার কবিতা লিখি বয়সসন্ধি কালে। যখন প্রথম প্রেম গন্ধ ছড়িয়েছে মনে ও মাথায়। এভাবেই হয়তো লেখা এসে গেছে এক একটা সময়ের অন্তর্জালে জীবনের ভাবনা জমাতে। অল্পবিস্তর লিখতে লিখতে ফেসবুক বেশ বড় ভূমিকা নেয় আর কিছু মানুষের ভালোলাগা প্রেরণা দেয় এই লেখার সমুদ্রে ডুব দিতে। জীবনের রোদে ঘামতে ঘামতে মানুষ যখন অবকাশ পায়, নিজেকে নিংড়ে নিয়ে বের করে প্রকাশের ভাষা। কারো কাছে তা নিছক কবিতা, আবার কারো কাছে জীবনের এক অমূল্য পাণ্ডুলিপি। মনে আছে যে...

পরিস্থিতি

এমন লেখার আগ্রহে ধার দেবার জন্য নিশপিশালো সে হাত এখন হলুদ পাতা, প্রখর আলোয় নেতিয়ে এলো। চারদিকে সব নতুন জোয়ার, চোখ ঝলসায় - চোখ ঝলসায় পেছন দিকে তাকিয়ে আমি আটকে গেছি জীর্ণ পাতায়। সে সব লেখা কবিতা, গান, প্রতিদিনের জীবনলিপি...  বিলাসিতা সেসব, এখন সবার ওপর পরিস্থিতি  কে নেই যেন! কে আছে, কে স্বপ্ন দেখে ছবির আড়ে — নতুন বছর, পাঞ্জাবি, প্রেম, বন্ধ ঘরে গন্ধ ছাড়ে  এখন ধূসর দিনলিপিতে নিত্য কাঁধের পাহাড় বোঝা নতুন নতুন আলোর ভীড়ে পুরোনো সব স্বপ্ন খোঁজা। কোথায় যেন হারিয়ে গেছে পুরোনো দিন, পাহাড়, বরফ একলা বোঝা টানতে থাকে স্বপ্নহারা এক অপারগ।। ©প্রভাত ঘোষ

বারিষনামা (১৬)

মাঝে মাঝে মেঘ আসে বসে থাকলে, দূরের খেয়ালে; অথবা খেয়াল বহু দূরে ঘুরে আসে কখনো কখনো সবার আড়ালে ধুলো-বালি উড়ে আসে চোখে মুখে, শ্বাসরোধ— জল নেই, ভেজায় পারদ জানি, এমনটা মাঝে মাঝে হয় চুপ থাকে বিশাল প্রলয় হাতহীন হাতিয়ার— অন্ধকারে যুদ্ধ করে সেনা মাঝে মাঝে ঝড় ওঠে, বৃষ্টি নামে না৷ © প্রভাত ঘোষ

শব্দতরী

কতোবার জন্ম নিলে আলো হয়ে ঠিকরে আসে জল যতটা বিদ্বেষ ধুলে হাততালি পাড়ে শব্দদল সেখানে তোমায় দেখি.... আশু ক্ষোভ, বাকিটা বিশ্বাস আর হাত ধরে ভেসে চলা তরী তোমাকে লিখবো বলে ধীরে ধীরে শব্দ জড়ো করি। ✍️ প্রভাত ঘোষ

ঝালর

একদিন গলির মোড়ে, জীবনের সব ঝালরে সারাদিন জ্বালিয়ে বাতি, কটা দিন জমজমাটি। গহীনের নীল সাগরে, উজাগর প্রেমের ঘরে হাতে নিয়ে নীল বাতিটি কে বসে আদর করে তার গায়ে হলুদ শাড়ি, শিয়রে স্বপ্ননারী মায়াবী পরশে আর... কে কদিন হাসলো নীড়ে... এসবের মাপকাঠি তে জীবনের বিচার করি। © প্রভাত ঘোষ

অবশিষ্ট জল

হাসিমুখে ছেড়ে আসা জোয়ারের জল পেছনে ছুটিনি বলে হয়তো বা টিকে গেছে বন্ধুবৃত্তে শতদল। ছুটে ছুটে অবশেষে ভারাক্রান্ত থেমে যাওয়া নীরব রাতের মত বোধি; চৌহদ্দি পেরোতে গেলে গরাদ দাড়িয়ে থাকে গোলাপ তুলতে গেলে ক্ষতি। ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও, কিছুটা তফাৎ যাও সময়ও অনেক করে খুন। ব্যথাহীন! হাসিমুখ; ক্ষীণতর যোগাযোগে বেঁচে আছে শতদল এটুকুই অনেক শুকুন। জীবনের চক্রব্যুহে সমাধান বড়ই সরল— নদীকে আপন করে, দু দন্ড হেসে খেলে বিনয়ের সাথে তুমি ছেড়ে এসো অবশিষ্ট জল। © প্রভাত ঘোষ 

ঘুরতে ফিরতে

Image
আরো কিছুদিন, আরো কিছু পথ... ছেলেবেলা আর চেনা সৈকত মাঝে মাঝে আসে ফিরিয়ে নেবার দিন দিন বাড়ে, ছোট হয় পরিধী হঠাৎ এভাবে ছোট্ট বিরতি গুমোট জীবনে আলতো হাওয়ার ঋণ। © প্রভাত ঘোষ