Posts

অন্ধকার পথে (১১)

১১) কোথায় চলেছ — যেন মনখোয়া ডিঙির নাবিক উজাড় প্রান্তর যেন ধোঁয়ার প্রতীক হয়ে ভ্রমে ভ্রমে ভুলিয়েছে দিক কাজ আছে আজ নেই, কাল আর কাল-এ ঘেরা জাল ঝুনঝুনি বাজে ওই— ওপারে দাঁড়িয়ে মহাকাল৷ পরিণত ফল হয়ে যদি কোনো চারা দিতে পারো আগামী সূর্যের মতো নাম জ্বলে উঠবে তোমারও ©প্রভাত ঘোষ

কুসুম কানন

আরও একটা গান আমি লিখব জীবনে৷ ডুবতে ডুবতে জীবনের সমস্ত হারিয়ে ফেলা নিশ্বাসের বিশ্বাসকে টেনে ধরার গান৷ অনন্তকালের সব কুয়াশার ডানা ছেঁটে ভালবাসার তীক্ষ্ণ আলোয় নিজেকে ফিরে পাবার গান৷ স্বপ্নহীন বাঁচতে চাইনি কখনোই, অন্ধকার মৃত্যুর ঢেউ এমন আছাড় মারে— জীবনের চোখ দিয়ে আঁকা যতো ক্যানভাসের রং সব পুড়ে যেতো হয়তো আগুনে৷ তখন'ই কবিতা থেকে উঠে আসে আর্তনাদী হাওয়া৷ সে হাওয়ার বুকে হাত রেখে সে'ই বলেছিল ভালোবাসি, সত্যি ভালোবাসি৷ আঘাতে আঘাতে মৃতপ্রায় এক উন্মাদের ছিন্নভিন্ন ঘর আগলে ধরে বলেছিল— এ জীবনে আরও একবার বিশ্বাসের হাত ধরে ফিরে এসো সুবিশাল মুক্ত ধরাতলে, এখন'ই জন্ম নেওয়া বনটিয়া সোনাঝুরি ডালে... তার সুরে সুরে— আধভাঙা মনে... ভালোবাসা মুক্তি পাক বসন্তের কুসুম কাননে৷  ©প্রভাত ঘোষ

অন্ধকার পথে (১)

১) দুটো পাখি জড়াজড়ি দুধ উল্টে পড়ে আছে মেনি কিছু পাতা, ঝরা ফুল, ওরা আসছে— ফাঁকা রান্নাঘর তখনো শুনিনি কার পথমধ্যে লুকানো কবর মেনি আর উঠে এসে ভেজা নাক ঘষে না জামায় পাশে প্রভু অচেতন,  অসহায়, মৃত্যু বুঝি বিভেদ করে না দ্বেষ, ঘৃণা আর প্রার্থনায়! © প্রভাত ঘোষ

বৃষ্টিতে যারা হাঁটেনি কখনো

বৃষ্টিতে যারা হাঁটেনি কখনো ৪) তাদের কি ক্ষমা করবো আর? এই পথ দিয়ে যারা এসেছিল না ফেরার ছিল অঙ্গীকার যে যার নিজের মতো নদী হয়ে বেছে নিল পথ কখনো কখনো কাছে যাই ছেড়ে যাওয়া স্রোতে                ডুব দিয়ে তাদের ফেরাই।

ধারা

আধো আধো ফুটে গেছে ফুল যেটুকু কাঁকর ছিল তারই মাঝে সেচ, চাষাবাদ প্রার্থনা আকুল, যেন খরা ধুতে এইমাত্র বৃষ্টি আসবে ধেয়ে জীবনের স্রোত ধারা বেয়ে— সকলের আনন্দ সংবাদ কোন্ পাতা নষ্ট হয়ে ধীরে ধীরে পড়ে যাচ্ছে ঝরে তার কোনো ছাপ মাটি রাখছে না তোমার অধরে মৃদু মৃদু তাপ তারই মাঝে বেড়ে ওঠা প্রকৃতির বসন্ত সংলাপ যে যার স্বপ্নের দিকে যায় হাতে হাত মিলে গেলে ফুটে ওঠে নতুন অধ্যায়

পলেস্তারা

এক বিছানায় চাদর বদল, নতুন কোনো আকাশ ফেলছে মুড়ে আমায়, তোমায় শোনায় কোনো গল্প যেনো নতুন করে আঁকা কোনো কনস্টেবলের চিত্র হারিয়ে ফেলে আমায়, আমি আমার কাছেই জিতব এক একটা দিন শুকনো ভালো, মৃত্যু ভালো, জানে— এই পৃথিবী নতুন করে স্বপ্ন দেখার মানে কুড়িয়ে রাখি শুকনো পাতা শিউলিতলায় বসে মুড়ছে হাঁটু, ঝুঁকছে মাথা শরৎ যেন স্বপ্নদাতা পেছন ফিরে দেখতে পেলাম— পুরোনো রং, নষ্ট যত পলেস্তারা পড়ছে খসে হাওয়ার কাছে গন্ধ চিনি, আস্ফালনে ভয়— পুজো যেনো বলতে আসে সকল ঝোঁকার অর্থ কিন্তু নিচু হওয়া নয়৷ © প্রভাত ঘোষ

নজরানা

মৃত্যু আমার অন্ধকারে, মৃত্যু আমার মাথায় পায়ের তলে বৃষ্টি জমে                                   জং ধরেছে বাঁচায়৷  কে কোন খাতে ঠুকবে বলে                              পেরেক নিয়ে বসে ড্রেনের ভেতর পদ্মকে কেউ মেরেছে আক্রোশে এই কদিনের জংলি হাওয়া                 চিনতে শেখায় ডানা — দেখিয়ে দিল শিক্ষা আমার প্রকৃত আস্তানা৷ যুদ্ধ আর এক নতুন সিড়ি                            বিদ্রোহী গন্তব্য — যে হাত আমায় দিক চেনালো তাদের কথাই ভাববো৷ উল্টো হাতে গুনতে থাকা কর্দমাক্ত সন্ধ্যা ঘৃণার চোখে পেরিয়ে আসি                                   আস্ত অলকনন্দা৷ এই ক'দিনের জংলি হাওয়ায়,                   ...

ইগো

প্রকৃতি সহায় হলে মেঘ ওঠে, গর্জনকে হাতিয়ার করে  নিয়তই ছড়ায় হুংকার ভুলে যাচ্ছে ভিটে-মাটি , ধুলো-বালি, ফেলে আসা জামানার পথ — নিজেকে পরখ করে , একটু পেছন ফিরে দেখা যদি যেত  হোঁচটের ক্ষত, পতনের দান হারানো জীবনরথ বেড়ে ওঠা ইগোর সমান ভুলে যায় অপরাধী, অপরাধ ভুলে যায় কিছু? যেটুকু বেড়েছ মেঘ— সবই মাটি, জল থেকে পাওয়া এত যে উড়েছে সেই ধূলায় গড়াবে বেপরোয়া‌‍‌‌‍‍।

দহন

আমরা যারা মরতে জানি, মারতে জানি নিজেকে কোপ; প্রতিবাদের পাতায় বসে সহনশীলতায় ঘাড় নামাবো, আমার কিসের দায়? ক্ষণিক সহন, আগুন বরণ, ঝলসে দিলে মুখ এক আঙুলে চালাচ্ছি দেশ এমনই উজবুক বিষাক্ত শ্লথ গিলছি বসে, কিসের অভিপ্রায়— নেশার সন্ধ্যায় আগুন আমার শৈশবাঘাত, আগুন ভবিষ্যত শুকিয়ে গেছে, শুকিয়ে গেছে পথ আর যেটুকু রইল বাকি সস্তা যখের ধন আঁকড়ে ধরা আগুন যেন আমার'ই প্রাক্তন পুকুর পাড়ে ধারের ধোঁয়া, মইয়ের ওপর ভাত ছিলিম যেন আস্ত যুবক, ঘুঙুর হারা নাচ— তবু কোথাও টান পড়েছে প্রতিবাদের ভাষায় সহনশীল অভ্যাসে— আগুন আমায় পুড়িয়ে দিও এগারশোর গ্যাসে। © প্রভাত ঘোষ

꧁ বারিষনামা (১৫) ꧂

একদিন, কোনোদিন এরকম'ই তুমুল বর্ষণে কতিপয় সময়ের টুকরোগুলি জুড়ে যাবে মনে ঝড় আর পাতার আওয়াজ ধুয়ে যাওয়া বিরক্তের কাজ; সেই খোলা জানালায় বসে একদৃষ্টে ভাবনার আকাশে দুজনের ভাবনায় মিল কোনোদিন দেখা নেই, ওপারেও পরিচয়হীন। রঙিন পাতায় যেন কবেকার আঁকা সাদা - কালো রঙের আল্পনা এই মিল লক্ষ - কোটি জনে। আজীবন স্বপ্নের স্মরণে মেঘের হৃদয় ধোয়া ছিটে এসে মুখে লাগে — (বুকে) শান্তির শলাকা অভিসার পূর্ণ শুধু স্পর্শ হাওয়ার মতো ফাঁকা কে বলবে— কে নেই, কে আছে— যারা চিরকাল ধরে মিলনের স্বাদ পায়— ঘর বাঁধে বৃষ্টির আকাশে। ©প্রভাত ঘোষ